চীন সীমান্তকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসা‌ইল সাজাল জাপান


এবার একসঙ্গে একঝাঁক আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে চীন। লাদাখ সীমান্তে যুদ্ধ-তৎপরতা শুরু করেছে ভারত। দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে এগিয়ে আসছে মার্কিন নৌসেনার তিনটি এয়ারক্র্যাফ্ট কেরিয়ার। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার চীন সীমান্তকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসা‌ইল সাজাল জাপান। পূর্ব চীন সাগরের সামনেই মোতায়েন করা হয়েছে জাপানের প্যাট্রিয়ট পিএসি থ্রি এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম। সরাসরি যার নিশানায় রয়েছে চীন। এখানেই শেষ নয়।
জাপান গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যেই চারটি মিলিটারি বেসে পিএসি থ্রি এমএসই মিসাইল বসানো হবে। যেগুলির পাল্লা ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টোকিওর সঙ্গে বেজিংয়ের চরম বিবাদ শুরু হয়েছে। জাপানের নাকের ডগায় মিসাইল সাবমেরিন পাঠিয়েছে চীন। তারই জবাবে জাপানের এই মিসাইল সক্রিয়তা।

উপমহাদেশের এই উত্তেজনার মধ্যে শনিবারই সরকারিভাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে উন্মাদ আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও। বলেছেন, ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র। সেই দেশের সীমান্তে জমি দখলের লক্ষ্যে আগ্রাসন দেখাচ্ছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। দক্ষিণ চীন সাগরের সমুদ্ররুট ব্লক করে দিচ্ছে তারা। বেজিংকে এসবের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। গত কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন করে ১২টি মিগ ২৯ এবং সুখোই ৩০ কিনতে চলেছে ভারত। সেই কারণে মস্কো সফরে যাচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার আগেই এদিন সেনা সূত্রে খবর মিলেছে, যত দ্রুত সম্ভব এই দুই যুদ্ধবিমান ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত রাশিয়া ইতিমধ্যে ভারত সরকারকে বার্তা দিয়েছে তারা।
সব মিলিয়ে বিগত ৫৩ বছরের মধ্যে সর্ববৃহৎ সংঘাতের পরিস্থিতিতে এখন দাঁড়িয়ে ভারত ও চীন। তবে এই সংঘাত যে নিছক দুই দেশের মধ্যে হবে না, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। বস্তুত বেজিং-বিরোধী ‘আন্তর্জাতিক অক্ষ’ গঠনের সব প্রস্তুতিও তুঙ্গে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ভারতের পাশে থাকতে চলেছে আমেরিকা, ফ্রান্স, জাপান, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া। জার্মানি এখনও এব্যাপারে মন্তব্য করেনি। তবে রাশিয়ার ভূমিকা হতে চলেছে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে, লাদাখ সীমান্তে প্রত্যক্ষ সংঘাতের যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা এবং সেনাবাহিনীও। ভারত ও চীনা বাহিনীর সাম্প্রতিক সংঘর্ষের এপিসেন্টারে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গলওয়ান নদীর উপর সেতু নির্মাণ করে ফেলেছেন ভারতীয় সেনা ইঞ্জিনিয়াররা। যার মাধ্যমে চীনকে চরম বার্তা দেওয়া হল বলেই মনে করা হচ্ছে। আজ এই সেতুর উপর আর্মড ভেহিকেল মুভমেন্ট পরীক্ষাও করা হয়। পাশাপাশি লাদাখের আকাশে উড়তে শুরু করেছে গ্ল্যাডিয়েটর স্কোয়াড্রনের সবথেকে শক্তিশালী হেলিকপ্টার অ্যাপাচে। পাঠানকোট এয়ারবেস থেকে আজই আরও চারটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার এসে নেমেছে লে এয়ারস্ট্রিপে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই অ্যাপাচে হেলিকপ্টার। ভারতের হাতে থাকা মোট ২২টি এরকম লং-বো ভার্সান হেলিকপ্টার রয়েছে। যা অর্ধেকের বেশি এজিএম-১১৪ হেলফায়ার এয়ার টু সারফেস মিসাইল বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন। পাইলট নাইট ভিশন সেন্সর থাকায় এই হেলিকপ্টার ২৪ ঘণ্টা কার্যকর থাকতে পারে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল চণ্ডীগড় থেকে লাদাখ পর্যন্ত ‘এয়ারব্রিজ’ তৈরি করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। যা সচরাচর সম্মুখ সমরের সময়ই হয়ে থাকে। গ্লোবমাস্টার থ্রি, সুপার হারকিউলিস এবং এএন ৩২ নিয়ে গঠিত এই এয়ারব্রিজের মাধ্যমে অস্ত্র ও সেনা পাঠানো হবে।
ভারত জানতে পেরেছে, গলওয়ান উপত্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বিপুল পরিকাঠামো তৈরি করেছে। ভারতের তিব্বত সীমান্তে পাঁচটি নতুন মিলিশিয়া ইউনিটও তৈরি করেছে তারা। কমিউনিকেশন, মাউন্টেনিয়ারিং, এক্সপিডিশন, রেসকিউ এবং ফাইট ক্লাব শীর্ষক এই পাঁচ ইউনিটকে শুধুই ভারতের সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে। পাল্টা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফরওয়ার্ড মুভমেন্ট তুঙ্গে উঠেছে। জানা গিয়েছে, হিমাচল প্রদেশের মানালি থেকে লে হাইওয়ে ধরে এখন শুধুই দেখা যাচ্ছে সারি সারি সাঁজোয়া গাড়ি। আর সেই আর্মি কনভয়ে লাদাখ সীমান্তে পাঠানো হয়েছে এমন এক অস্ত্র, যা প্রত্যক্ষ যুদ্ধের অন্যতম কার্যকরী শক্তি।

সূত্রঃ বর্তমান