মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে খরুলিয়াবাসীর মানববন্ধন

শাহীন রাসেল: ঝিলংজার ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনসহ নিরীহ লোকজনকে ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির প্রতিবাদে খরুলিয়ায় বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) দুপুরে কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া বাজারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুপাশে এ মানববন্ধনে অংশ নেন হাজারো জনতা। এতে অবিলম্বে মিথ্যা হত্যা মামলা থেকে জনপ্রতিনিধিসহ নিরীহ ব্যক্তিদের অব্যাহতি দেয়ার জোর দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন-বাংলাবাজার এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাতি-অস্ত্র মামলাসহ ৬টি চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী নবী হোছনকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ধারালো ছুরি পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ও সদস্য শরীফ উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন এবং তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। কিন্তু পুলিশ আসার খবর পেয়ে নবী হোছন তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত লোকজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বাজারে থাকা উত্তেজিত জনতা তাকে ধাওয়া করে খরুলিয়ার দরগাহপাড়া এলাকা থেকে ধরে ফেলে। এসময় ক্ষুব্দ জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। সেখানে পরদিন (১১ আগস্ট) পুলিশ হেফাজতে নবী হোছন মারা যান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন-ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান। তিনি বলেন-সাধারণ লোকজন তাকে ধরে মারধর ও পুলিশে সোপর্দ করলেও রহস্যজনক কারণে থানায় দায়েরকৃত মামলায় এলাকার জনপ্রয়ি ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনসহ নিরীহ লোকজনকে আসামী করা হয়েছে।
একজন মাদক ব্যবসায়ি, অস্ত্র ও ডাকাতি মামলার আসামীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় জনপ্রতিনিধিসহ নিরীহ লোকজনকে আসামী করায় এলাকার জনসাধারণ ক্ষুব্দ ও মর্মাহত। দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ এ ঘটনায় জড়িতও থাকতে পারে। কিন্তু জড়িত নয় এমন লোকজনকে আসামী করার পেছনে ইয়াবা গড়ফাদারদের ভূমিকা রয়েছে। কারণ এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করা ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এভাবে মাদক প্রতিরোধে ভূমিকা পালনকারি ব্যক্তিদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হলে ভবিষ্যতে এলাকায় মাদকের ভয়াল বিস্তার ঘটবে। প্রতিরোধে কেউ এগিয়েও আসবে না।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মৌলানা আমিনুল হক, খরুলিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা মো. আলম, ঝিলংজা ইউপি সদস্য আবদুর রশিদ, ছলিম উদ্দিন, জহির উদ্দিন কাজল ও আবুল হোসেনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিশাল এ মানববন্ধনে খরুলিয়া কেন্দীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি, খরুলিয়া বণিক সমবায় সমিতি, নাগরিক কমিটি, বিভিন্ন সমাজ কমিটি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ও সমাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধন সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন-নিহত নবী হোছন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে ছুরতিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল এর বাড়ি ডাকাতিকালে অস্ত্র সহ আটক হয়ে ৫ বছর কারাভোগ করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের অভিযোগে ৬টি মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি এলাকার কিছু কুচত্রীমহল আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিদের হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে যাচ্ছে। কারণ দিনদুপুরে খরুলিয়া বাজারে মাদক বিক্রিকালে নবী হোছনকে জনতা আটক করে। যার শত শত প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে।
এরপরও ওইসব কুচক্রী মহল এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধি ও নিরীহ লোকজনকে ফাঁসিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং সাংবাদিকদের ভূয়া তথ্য দিয়ে দিনদুপুরে সংগঠিত এ ঘটনাকে ঘোলাটে করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যা এলাকাবাসীকে হতবাক করেছে। ক্ষুব্দ এলাকাবাসী মানববন্ধনে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মামলায় জড়ানো জনপ্রতিনিধিসহ নিরীহ ব্যক্তিদের অবিলম্বে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানান। অন্যতায় এলাকাবাসী আগামীতে আরো বৃহত্তর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন।