বর্ষায় কৃষকের সোনালী স্বপ্ন লুকিয়ে আছে আমন ক্ষেতে

শাহীন রাসেল, কক্সবাজার: যে দিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ। কৃষকের সোনালী স্বপ্ন লুকিয়ে আছে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে। বাজারে ধানের দাম তেমন পাওয়া যায় না। তারপরেও থেমে নেই। খালি নেই এক কাঠা জমিও। ঘরের ধানের ভাত খাবেন এই আশায়। আবার ধান কেটে ঘরে তুলে জমিতে চাষ করবেন সবজী-শস্য। অনেকে ধান চাষের লোকসান পুষিয়ে নিবেন সবজী চাষ করে।
এখন কক্সবাজার সদরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ চলতি রোপা-আমন মওসুমে চাষাবাদকৃত ধানের ক্ষেত এখন গাঢ় সবুজে পরিণত হয়েছে। দিগন্ত জুড়ে নজর কাড়ছে আমন ফসলের ক্ষেত। রোপা-আমন ধানের সবুজ পাতা দোল খাচ্ছে। কৃষকরা ইতোমধ্যে ক্ষেত পরিচর্যা শুরু করে দ্বিতীয় দফায় সার-কীটনাশক প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

সদরের বিভিন্ন এলাকার সবুজ ধান ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ ধানের চারা। মাত্র একমাস আগে আমন চারা রোপণ করেছেন সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষক। এক মাসের ব্যবধানে বেড়ে উঠেছে আমন চারা। একমাত্র বৃষ্টির পানি ছাড়া কোন সংকটে পড়তে হচ্ছে না কৃষকদেরকে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আমনের জমিতে পানি দিতে হবে এমনটাই মন্তব্য করছেন কৃষকরা। সার, বীজ, কীটনাশক সংকট না থাকার পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ কৃষকের আমন চাষে গতি বাড়িয়েছে আরো এক ধাপ।

ঝিলংজার খরুলিয়া গ্রামের কৃষক শামসুল আলম জানান, তিনি আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি আমনের চারা রোপণ করেছেন। শুধু পানি সংকট ছাড়া এবার কোন সমস্যা নাই তাদের। দেড় মাসের মধ্যে চারা বেশ বড় হয়েছে। পিএমখালী ইউনিয়নের উত্তর পাতলী গ্রামের কৃষক হাকিম মিয়া বলেন, বোরো চাষের লোকসান পুষিয়ে নিতে তিন বিঘা জমিতে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহে আমন চারা রোপণ করেন। তিনি আশা করছেন আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন ধান ঘরে তুলবেন। যদি বৃষ্টি কম হলে শ্যালো মেশিনের সেচ দিতে হলে তাদের খরচ কিছুটা বাড়বে বলে জানান এ কৃষক।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট ৭৮ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ লক্ষ ৪২ হাজার ৮৮ মেট্টিক টন চাল। শ্রাবণ মাসের প্রথম থেকে চারা রোপণ শুরু হয়ে চলবে ভাদ্র মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত।
তারমধ্যে হাইব্রিড ১০ হাজার ১২৫ মে. টন, উফশী ২ লক্ষ ৮ হাজার ৭২৬ মে. টন ও স্থানীয় ৫ হাজার ৪৩৭ মে. টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার গড় ফলন ধরা হয়েছে ২.৮৪ মে. টন। হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় মিলিয়ে চকরিয়া উপজেলায় ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ১৯৫ মে. টন। এছাড়া পেকুয়ায় ৮ হাজার ৪০০ হেক্টও জমিতে ২৪ হাজার ১১১ মে. টন, রামু উপজেলায় ৯ হাজার ৪৮০ হেক্টও জমিতে ২৭ হাজার ২৭ মে. টন, সদর উপজেলায় ৮ হাজার ৯৮০ হেক্টও জমিতে ২৫ হাজার ২৭৭ মে. টন, উখিয়ায় ৯ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে ২৭ হাজার ১৯২ মে. টন, টেকনাফ উপজেলায় ১০ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে ২৯ হাজার ৫৩৭ মে. টন, মহেশখালী উপজেলায় ৮ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে ২৩ হাজার ১৩৮ মে. টন ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ৮১০ মে. টন আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, আবহাওয়ার অনুকূল থাকলে এবারে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এবার ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাতে বিরি-৭৫ জাতের ধানের ভাল ফলন হয়। এ জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। গত বছর আমন চাষ হয়েছিল ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার জমির পরিমাণ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমন বীজতলায় বাকানি রোগ দেখা দিতে পারে। বাকানি রোগাক্রান্ত ধানের স্বাভাবিক চারা হালকা সবুজ, লিকলিকে, ও স্বাভাবিক চারার চেয়ে অনেকটা লম্বা হয়ে অন্য চারার ওপরে ঢলে পড়ে। আক্রান্ত চারাগুলো ক্রমান্বয়ে মারা যায়। আক্রান্ত চারার নিচের গিট থেকে অস্থানিক শিকড়ও দেখা যেতে পারে।