রমজান মাসে স্বাস্থ্য সচেতনতা

রমজান মাস সাধনার মাস,এ মাসে দোয়ার পাশাপাশি নেওয়া প্রয়োজন নিজেদের একটু যত্নের। আবার
করোনা মহামারীতে গৃহ-বন্দী(লক ডাউন)দেশবাসী।একটানা গৃহ-বন্দী থাকা-কালীন কমে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাই এ সময়ে প্রয়োজন বাড়তি যত্নের।
রোজায় সুস্থতার কথা আসলে, প্রথমতঃ দরকার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা।আবার অনেকেই বুঝেন না কি কি খাবার খাওয়া খুব জরুরী। তাই স্বাস্থ্যসচেতনতার ব্যাপারে নিম্নে কিছু টিপস দেওয়া হলো-

১.সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার-
অনেকে সেহরির না খেয়ে রোজা রাখেন,প্রথমতঃ ইসলামিক দৃষ্টিতে সেহরির করা সুন্নত। যেহেতু রোজার সময় শরীরের নিয়ামক প্রক্রিয়া সক্রিয় হয় যা দেহের মেদ কার্যকর হয়।আবার একটানা না খেয়ে থাকার কারনে বিপরীতটা ঘটে,শরীরে মেদ বাড়ে, শরীর হয়ে যায় দুর্বল।তাই সেহরির ও ইফতার সময়মতো এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার খাওয়া প্র‍য়োজন।

২.সেহরির খাদ্য তালিকা
পরিমিত পানি পান করুন(প্রতিদিন ৮ গ্লাস)
অধিক খাদ্য সেবন পরিহার করে, যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততোটুকু খাবার খান।
ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া, যেমনঃ লাল আটার রুটি, শাঁক,সবজি,ছোলা ইত্যাদি।এগুলো হজম হয় ধীরে ধীরে সাথে হজমশক্তি ও ঠিক থাকে। রক্তের চিনির পরিমান বাড়ে ধীর গতিতে।
খাদ্য তালিকায় শাঁক সবজি পাশাপাশি, অবশ্যই প্রোটিন খাওয়া দরকার, প্রোটিন হিসেবে সিদ্ধ ডিম/ভালোভাবে ভাজা ডিম খেতে পারেন,খেতে পারেন গরু, মুরগীর মাংস ও মাছ।কিন্তু খেয়াল রাখবেন প্রোটিন যেন অধিক পরিমাণে খাওয়া নাহয়।মাছ-মাংস দুই /এক টুকরো খাওয়াই ভালো।
খাদ্য তালিকায় দুধ পান করতে পারেন।এর ফলে ক্যালসিয়ামের পরিমান ঠিক থাকে।তাছাড়া খাবার পরে বাসায় বানানো হালকা মিষ্টি দই খেতে পারেন।
সেহরিতে দুধের সাথে,চিরা,ওট,কনফ্লেক্স ও খেতে পারেন।

৩।ইফতারে খাদ্য তালিকা
ইফতারে প্রথমতঃ তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন।পেয়াজু,চপ, বেগুনি ইত্যাদি খাওয়ার হলে অল্প পরিমান তেলে ভেজে নিন, আর বাড়তি তেল একটি টিস্যু পেপার দিয়ে ভালোভাবে সরিয়ে নিন।আর ভাজা পোড়া খেলে,খুব অল্প পরিমান খান।এতে স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে।
কোমল পানীয় হিসেবে, ফলের জুস যেমনঃ তরমুজ, বাঙ্গী , কাচা আমের জুস,লাচ্চি, মিল্কশেক বানিয়ে খেতে পারেন। ট্যাং এর শরবত বা বাজারে জ্যুসে অতিরিক্ত চিনি ও রং মিশ্রিত থাকে যা আপনার দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই ভালো হয়, লেবুর শরবত খাওয়া বা ঘরোয়া ভাবে ফলের জুস বানানো।
ইফতারে খেজুর অবশ্যই খাবেন।এতে আছে শর্করা , চিনি , সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, তামা, সালফার, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন, ক্লোরিন,ফাইবার , যা সারাদিন রোজা রাখার পরে খুব ই দরকারী।
ইফতারে পানি বা শরবত খান। তারপর খোর্মা বা খেজুর খাবেন | নামাজ পরে আস্তে আস্তে বাকি খাবার খাবেন।
অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার পরিহার করুন।ইফতারে চিনি যুক্ত খাবার খুব দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে শরীর ঘামতে থাকে, অস্থিরতা কাজ করে।তাই শরবতেও চিনি কম দিয়ে খাবেন।
ইফতারে কাচা ছোলা খাওয়া ভালো।এতে কারবহাইড্রেটের মাত্রা স্বাভাবিক ও হজমশক্তি ঠিক থাকে।
বেশি করে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল খাবেন এতে করোনা থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম
দৈন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত ঘুম খুব প্রয়োজন, তা দৈহিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু রোজার মাস মানেই ঘুম নয়, দৈনিক ৮ ঘন্টার বেশি ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী নয়।

৫.ব্যায়াম
রোজার মধ্যে ব্যায়াম বলতে,এক ভাবে বাসায় বসে না থেকে একটু হাটাচলা করেন। করোনার মহামারীপরিস্থিতিতে বাইরে বের হতে না পারলেও, বাসায় নিয়মিত হাটূন। ছাদে ঘুরে আসুন,লিফট ব্যাবহার না করে সিঁড়ি ব্যাবহার করুন।
এভাবে রমজান মাসে ও করোনার মহামারী পরিস্থিতিতে নিজের যত্ন নিতে পারেন।শারীরিক সুস্থ থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবেও সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

লেখিকা- নওশিন ইসলাম প্যারিসা