গাজীপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে থাকা এনসিপি প্রার্থী আলী নাছের খানকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যার পর মহানগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ি এলাকায় মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আজ রোববার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি দিয়েছেন এই আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের নির্বাচন পরিচলানা কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম।
শাপলা কলির প্রার্থী আলী নাছের খান জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর ধানের শীষের লোগো সম্বলিত গাড়ি ব্যবহার করে এই হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। এ সময় এনসিপির গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব খন্দকার আল আমিন আহত হয়েছেন।
রিটার্নিং কার্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যার পর শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থনে নির্বাচনী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মহানগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ি এলাকায় মহাসড়কে পৌঁছালে বিএনপি প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির প্রচার মাইক বহনকারী অটোরিকশা ওই শোভাযাত্রার গতিরোধ করে। একই সঙ্গে উচ্চস্বরে মাইক বাজাতে থাকে। শাপলা কলি প্রতীকের শোভাযাত্রার গতি থামিয়ে তাদের চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত না করে উস্কানিমূলক আচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ২১নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সুমন সরকার ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থীর চাচা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ধানের শীষের স্টিকার সম্বলিত প্রাইভেট কার ব্যবহার করে চাপা দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়।
নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রক্ষা করতে পারছে না বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, যার ফলে এই হত্যা চেষ্টা। এ সময় প্রার্থী প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয়েছেন এনসিপির জেলা কমিটির সদস্যসচিব খন্দকার আল আমিন। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে এনসিপি প্রার্থী আলী নাছের খান গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। তার ভাষ্য, জনপ্রিয়তা না থাকায় ভাইরাল হতেই এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন এনসিপির প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘আমি একটি প্রোগ্রাম শেষ করে পোড়াবাড়ি বাজারের পথ ধরে ফিরে আসছিলাম। তখন আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন পোড়াবাড়ি বাজারে রাস্তার পাশেই নামাজ পড়েন। তাদের আমার গাড়ির পেছনে না পেয়ে ফোন দিলে জানান, নামাজ শেষে বের হলে এনসিপির প্রার্থী আলী নাছের খান তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এখানে হুমকি কিংবা গাড়িচাপার চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি।’
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এনসিপির প্রার্থী আলী নাসের খানের নিরাপত্তার জন্য আগেই গানম্যান দেওয়া হয়েছে। তার যদি আরও নিরাপত্তা প্রয়োজন হয় তবে আরও নিরাপত্তা কর্মী দেওয়া হবে।