ইলিশ চাষে সরকারের অনুমোদন নেই

Date: 2026-02-05
news-banner

ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কৃত্রিম পদ্ধতি বা অন্য কোনো আবদ্ধ, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় ব্যবস্থায় ইলিশ চাষ বা এ-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সোমবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশে ইলিশ মাছ চাষ সংক্রান্ত যে আলোচনা ও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে সরকার।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তারা রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলিশ মাছ চাষ করতে চায়। এ লক্ষ্যে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এই খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে গত রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে আরএএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবদ্ধ, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ চাষের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। সার্বিক পর্যালোচনায় সভায় বলা হয়, ইলিশ মাছ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। দেশের নদী ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র, খাদ্যনিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং বিপুলসংখ্যক জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবিকার সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র এবং নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে ইলিশ-সংক্রান্ত যে কোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নীতিনির্ভর বিষয়। যথাযথ বৈজ্ঞানিক যাচাই, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া তাদের সঙ্গে যৌথভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে ইলিশ মাছ চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিল। সে পরিপ্রেক্ষিতেই একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। বিষয়টির কৌশলগত, প্রযুক্তিগত ও বাস্তব দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চাষযোগ্য ও বাস্তবসম্মত মনে হলে পরবর্তী সময়ে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো কার্যক্রম নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News