বিএনপি প্রার্থীর উঠান বৈঠকে আ.লীগ নেতাদের ‘জয় বাংলা, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান

Date: 2026-02-05
news-banner

মাদারীপুর-১ (শিবচর) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান পিছু ছাড়ছে না। প্রথমে মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ভাইরাল হওয়ায় মনোনয়ন স্থগিত করে বর্তমান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তার উঠান বৈঠকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাদের একই মঞ্চে দেখা গেছে। যেখানে বক্তব্যের শেষে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। এমনই একটি ভিডিও বুধবার সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনার ঝড়। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা মামলার বাদী বিএনপি নেতা ও মামলার আসামিও ছিলেন একই মঞ্চে।

জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নাদিরা আক্তারকে আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়রের বাড়িতে উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের একই মঞ্চে দেখা যায়। মঙ্গলবার বিকেলে শিবচর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবচর পৌরসভার নৌকা প্রতীকের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ খান, বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাসহ দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। এ সময় পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন খানের বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করতে দেখা যায়। এর আগে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় কামাল জামান (নুর্নদ্দিন) মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত করে বিএনপি। পরে বর্তমান প্রার্থী নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনিও বিতর্কে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে একই মঞ্চে থাকায় ও সেখানে স্লোগান দেওয়ায়।  

এ সময় চরজানাজাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রায়হান সরকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও চিফ হুইপ নুর এ আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশে তারা বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। তার জন্য মনে প্রাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। এ ঘটনায় বিশেষ করে এ ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর আক্ষেপ ও ক্ষোভ রয়েছে এ ঘটনায়।  
এছাড়া সেখানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র আওলাদ খান ও বহেরাতলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান হায়দার হাওলাদার।
দলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বিএনপি প্রার্থীর উপস্থিতি দলীয় আদর্শ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী বলেন, দলের নীতি আদর্শ ছেড়ে যারা ভোটের জন্য হত্যাকারীদের নিয়ে একই মঞ্চে উঠতে পারে তারা সব কিছুই করতে পারবে। উপস্থিত অনেকেই হৃদয় হত্যা মামলার আসামি তাদের সাথে বাদীও উপস্থিত ছিলেন। তারা কীভাবে উপস্থিত থাকে। পুলিশ প্রশাসন তাদের বাড়িতে অভিযান দিয়ে পায় না। অথচ তারা উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন জয় বাংলা বলে। বড় ধরনে ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে। প্রশাসনের কাছে চাওয়ার কিছু নাই। তারা যা না দেখার তা তারা দেখছে না বলে মনে হয়। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মানুষ তাকে ভোট দিবে। তাদের রায়ে ভাল ফলের আশা করেন তিনি।

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রাজিব মোল্লা বলেন, গত কয়েকদিন আগে বিএনপির প্রার্থী সাবেক আওয়ামী লীগের এমপির বাবা মায়ের কবর জিয়ারত করতে যান। যার জন্য তিনি সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ করেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শিবচরে সুন্দর পরিবেশ নেই। বিএনপির প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে যে কার্যক্রম শুরু করেছেন তাতে বড় ধরনের খারাপ কিছু ঘটতে পারে। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে চলে যাবেন। ক্ষতি হবে সাধারণ জনগণের।

এ বিষয়ে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান (নূরুদ্দিন) মোল্লা বলেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ কারণে তা স্থগিত করে বর্তমান প্রার্থীকে দেওয়া হয়। তার মনোনয়ন বাতিলের বিষয় আজও বিএনপি জানায়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিগত দিনে হামলা মামলা নির্যাতন সহ্য করে দলের জন্য কাজ করলেও দল তা বিবেচনা করেনি। যাকে মনোনয়ন দিয়েছে সে জনপ্রিয়তার অভাবে আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে মাঠ দখলের চেষ্টা করছেন। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশ হত্যা মামলার আসামিদের না পেলেও উঠান বৈঠকে তাদের পাওয়া যায়।

শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন বলেন, হৃদয় হত্যা মামলার বাদী সে হলেও অজানা কারণে তার কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে না। দাওয়াত পেয়ে সেখানে গেলেও পরিস্থিতির দেখে তিনি বক্তব্য দেননি। তাই আরেকটি অংশ নিজ ইচ্ছেতে উঠান বৈঠকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত, দলের সবার ভবিষ্যতে এমন ঘটনার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, স্থানীয়রা উঠান বৈঠকের আয়োজন করে। পরে উপস্থিত হয়ে দেখি সেখানে অনেক লোক। তারা কে কি বলবে; তা বুঝে ওঠার আগের বিতর্কিত ঘটনা ঘটে যায়। এতে আমার কোনো দায় নেই। এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্রও হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া বলেন, মন্তব্য করার এ মুহূর্তে কিছু নেই। বিষয়টি জেনিছি। আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News