কেন্দ্র দখল বা সিল মারার চেষ্টা হলে পুরো আসনে ভোট বন্ধ করে দেব
Date: 2026-02-11
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো কেন্দ্র দখল বা সিল মারার চেষ্টা হলে পুরো আসনে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো কেন্দ্রে এমন বিশৃঙ্খলা হলে শুধু কেন্দ্র নয়; পুরো আসনের ভোট স্থগিত করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইজিপি।
বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনে আমরা মাঝেমধ্যে দেখেছি, ভোট থামিয়ে বিক্ষোভ করে কেন্দ্রের মধ্যে ঢুকে পড়ে, সিল মারে। এটাকে যদি মব বলেন, এটা চিরকাল ছিল। এটা নতুন নয়। তবে এবার আমরা একটিও বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটতে দেব না। যেটা নির্বাচন কমিশন বলেছে, যদি এমনটা করে, আমরা ভোট বন্ধ করে দেব। একটা কেন্দ্রে করলে আমরা পুরো আসনে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেব। এবার পারবে না; শুধু দেখেন।
জঙ্গি তৎপরতা
নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারের সময় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনার পর সেই শঙ্কা আরও বেড়েছিল। এ মুহূর্তে তীব্র আশঙ্কা বোধ করছি না, তবে উড়িয়েও দিচ্ছি না। হামলার ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের হুমকি নেই।
নির্বাচনে জঙ্গি হামলার কোনো শঙ্কা আছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান আশঙ্কা ছিল প্রচারের সময়। যারা নির্বাচনবিরোধী, তারা মনে করে, তথাকথিত ওয়েস্টার্ন ডেমোক্রেসিটা, এটা তাদের মতবাদের সঙ্গে মেলে না। তাদের ধর্মভিত্তিক মনোনয়ন হবে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, নির্বাচনী প্রচারের সময় কিছু করা। সোমবার নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়ে গেছে, কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখন আশ্বস্ত হতে পারি, জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এখন আর ওভাবে নেই।’
অস্ত্র উদ্ধার
আরেক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের এক হাজার ৩৩০টি অস্ত্র লুট হওয়ার পাশাপাশি থানায় জমা থাকা ব্যক্তিগত লাইসেন্সধারী প্রায় এক হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে। যে কোনো অবৈধ অস্ত্রই হুমকি। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। এসব মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে। অনেকে হয়তো দেশে নেই, কিন্তু অস্ত্র লকারে তালা মেরে রেখে বিদেশে আছেন। তাদের বৈধ অস্ত্রগুলো হয়তো জমা পড়েনি। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম। ভোট যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সংস্কার নিয়ে হতাশা
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সংস্কারের বিষয়ে বাহারুল আলম বলেন, ‘আমরা ২০০৬-০৭ সাল থেকেই চাচ্ছিলাম পুলিশকে কাজের স্বাধীনতাটা দেওয়া হোক। পুলিশ অন্তত কাজ করার সময় যেন সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলের কোনো নির্দেশনা না পায় মামলা তদন্তসহ অন্যান্য কাজে। কিন্তু আমরা এখনও তা পাইনি। পুলিশ সংস্কার কমিশন যেটা হয়েছে, সেটাতেও এটা নেই এবং আমরা একটা বিষয় চেয়েছিলাম, রাজনৈতিক প্রভাবে কিন্তু পদোন্নতি-পদায়ন হয়। আমরা মৃদুভাবে বলেছি, এটা যদি পুলিশ কমিশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাহলেও একটা বাড়তি সুবিধা দেবে। সেটাও আসলে আমরা পাইনি।’
আইজিপি আরও বলেন, ‘আমরা একটা জায়গায় এসে এই সরকারের কাছে বলেছিলাম, অন্তত পুলিশের শীর্ষ পদে নিয়োগটা কমিশনের কাছে ছেড়ে দেওয়া হোক। তারা তিনজনকে সুপারিশ করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার একজনকে নিয়োগ দেবে। সেটাও অধ্যাদেশে প্রতিফলিত হয়নি। বলা আছে, কমিশন তিনজনকে সুপারিশ করবে। কিন্তু সুপারিশ অনুসরণ বাধ্যতামূলক, সেটা বলা হয়নি। সবার ভেতরে থেকেই এই দাবিটা আসা উচিত।’

