বাসন্তী রঙের দিনে

Date: 2026-02-11
news-banner

ফাল্গুনের আগমনে প্রকৃতি যেমন নতুন রঙে সেজে ওঠে, তেমনি মানুষের মনেও লাগে ভালোবাসার ছোঁয়া। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস দুটি যেন একই সুতায় গাঁথা। ফুলের রং, নরম রোদ আর মৃদু বাতাসের সঙ্গে এই সময়ের সাজপোশাকেও দেখা যায় উচ্ছ্বস ও আবেগের প্রকাশ। লিখেছেন ইসরাত জাহান 

‘গগনের নভোনীলে মনেরও গোপনে/বাজে ঐ, বাজে ঐ, বাজে ঐ/পলাশেরও নেশা মাখি চলেছি দুজনে/বাসনার রঙে মিশি শ্যামলে স্বপনে/কুহু কুহু শোনা যায়,/কোকিলের কুহু তান/বসন্ত এসে গেছে, বসন্ত এসে গেছে...।’

বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যেমন সাজ সাজ রব পড়ে তেমনি বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে পোশাকের বাজারে তৈরি হয় বিশেষ আয়োজন। উজ্জ্বল রং, ফুলেল নকশা ও আরামদায়ক কাপড়ের সমন্বয়ে নারী, পুরুষ ও শিশু–সবাই নিজেদের সাজিয়ে তোলে উৎসবের আবহে। ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো নিয়ে এসেছে হলুদ, লাল, কাঁচা হলুদ, কমলা, মেরুন, কলাপাতাসহ নানা রঙের পোশাক। 
পোশাকের ব্র্যান্ড বিশ্বরঙের ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ঋতুরাজ বসন্তের রঙের আদলে পোশাক তৈরি করে থাকি। উজ্জ্বল রং, তবে চোখে দেবে শান্তি–এমন রংকে প্রাধান্য দিয়ে এবার বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের পোশাকের পসরা সাজিয়েছি।’
বসন্তের ফ্যাশনে নারীর পোশাকে থাকে রং ও নকশার বৈচিত্র্য। আরামদায়ক কাপড়ের সঙ্গে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশ্রণই প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ফুলেল নকশার শাড়ি
পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসার আবহকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করে ফুলেল নকশার শাড়ি। কটন, সিল্ক বা লিনেন কাপড়ে তৈরি এসব শাড়িতে থাকে হলুদ, লাল, সাদা কিংবা প্যাস্টেল রঙের ব্যবহার। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক কাপড়ের ব্যবহার বসন্তে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। খাদি বা হ্যান্ডলুম শাড়ি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি এটি মার্জিত ও ঐতিহ্যবাহী লুক তৈরি করে। একই দিনে পহেলা ফাল্গুন এবং ভালোবাসা দিবস হওয়ায় অনেকেই লাল বা গোলাপি শাড়ি পরেন। সিল্ক, জর্জেট বা কটন কাপড়ে তৈরি এসব শাড়িতে থাকে ফুলেল নকশা বা হালকা এমব্রয়ডারির কাজ। 

সালোয়ার-কামিজ
গরমের শুরুতে আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সুতি থ্রিপিসের জনপ্রিয়তা সবসময়ই বেশি। কাঁচা হলুদ, হলুদ, কমলা, সবুজ, কলাপাতা রঙের ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ড-পেইন্ট বা এমব্রয়ডারির কাজ করা থ্রিপিস বসন্তে বেশি চলে। একইসঙ্গে লাল, মেরুন বা প্যাস্টেল রঙের থ্রিপিসও বেশ জনপ্রিয়। ব্লক প্রিন্ট বা সূচিশিল্পের কাজ করা থ্রিপিসও এদিন মানায়। 
লং কুর্তি ও পালাজ্জো
শুধু শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ নয়, আধুনিক ফ্যাশনে লং কুর্তি ও পালাজ্জোর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। হালকা কাপড়ের এই পোশাক অফিস, ক্যাম্পাস বা আড্ডা–সব জায়গাতেই স্বাচ্ছন্দ্যে পরা যায়। 

স্কার্ট-টপ ও ফিউশন পোশাক
তরুণীদের মধ্যে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ফিউশন পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। ফুলেল স্কার্টের সঙ্গে সাদামাটা টপ চমৎকার লুক তৈরি করে। 

বসন্তে পুরুষের পোশাক
বসন্ত ও ভালোবাসার উৎসবের সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাক হলো পাঞ্জাবি। হলুদ, অফ হোয়াইট, সবুজ বা লাল রঙের কটন পাঞ্জাবিতে ফুলেল বা নকশিকাঁথা স্টাইলের ডিজাইন বেশি দেখা যায়। সাধারণ কিন্তু মার্জিত লুকের জন্য বেছে নিতে পারেন কুর্তা-পায়জামা। বসন্তের সকালের আড্ডা বা বিকেলের উৎসবে এটি বেশ মানানসই। ফুলেল বা হালকা প্রিন্টের শার্ট বসন্তের ফ্যাশনে নতুনত্ব যোগ করছে। ক্যাজুয়াল আয়োজনে এটি সহজেই মানিয়ে যায়। বসন্তের আবহাওয়ায় লিনেন শার্ট যেমন আরাম দেবে, একই সঙ্গে এটি পরিপাটি স্টাইলও বজায় রাখবে। 

শিশুদের বসন্ত 
বসন্তের রঙিন পরিবেশ শিশুদের পোশাকেও প্রতিফলিত হয়। বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফটসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড ছোটদের জন্য এনেছে বসন্তের পোশাক। কে ক্র্যাফটের স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘হালকা বাসন্তী, লাল, কমলা, সবুজ, হলুদ, গোলাপি, ল্যাভেন্ডার ও প্যাস্টেল শেডের পোশাক আনা হয়েছে শিশুদের জন্য। আরামদায়ক ফেব্রিকে অর্থাৎ ভয়েল, লিনেনে তৈরি করা হয়েছে পোশাকগুলো। ফ্রক কাটের কামিজ, লম্বা কামিজ সঙ্গে প্যান্ট স্টাইলের পায়জামা, পালাজ্জো, ধুতি পায়জামা এবং ফ্রক, কুর্তি, টপ ইত্যাদিও রয়েছে শিশুদের সংগ্রহে। ছেলেশিশুদের জন্য শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট রয়েছে আর পোশাকে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, এমব্রয়ডারি, টাই-ডাই ইত্যাদির মিশেলও আছে।’ 
অনলাইন ব্র্যান্ডগুলো মেয়েশিশুদের জন্য শাড়িও এনেছে। জামদানি, সুতি, মণিপুরি সব ধরনের রেডি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। 

দাম
ভালোবাসা দিবসের পোশাক হোক বা বসন্তের পোশাক–এগুলোর দাম সাধারণত কাপড়, ডিজাইন ও কাজের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। শাড়ি বা থ্রিপিসের দাম শুরু এক হাজার টাকা থেকে এবং তা হতে পারে চার হাজার কিংবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। পুরুষদের পাঞ্জাবির দাম ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ তা হতে পারে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। বাচ্চাদের পোশাক যেমন ফ্রক, ছোট পাঞ্জাবি বা টি-শার্ট কিনতে পারবেন ৪০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে।

বসন্তের সাজ 
রঙিন পোশাকের সঙ্গে সাজও হওয়া চাই বিশেষ। যারা অফিস বা ক্লাসে যাবেন তাদের সাজ স্নিগ্ধ হওয়া চাই। শোভন’স মেকওভারের স্বত্বাধিকারী ও কসমেটোলজিস্ট শোভন সাহা  জানান, সকালে মুখ স্ক্রাব করে ধুয়ে নিতে হবে। ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এতে ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশবে। এরপর প্রাইমার লাগানোর পর বিবি ক্রিম লাগিয়ে নিন। চোখের নিচের কালো দাগ, ঠোঁটের চারপাশের কালো দাগ ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করুন। ফেইস পাউডার বুলিয়ে হালকা পিচ ও গোলাপি রঙের ব্লাশন বুলিয়ে নিন। চোখে শ্যাডো ব্যবহার করুন শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে। চাইলে এটি বাদও দিতে পারেন। চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে মোটা করে আইলাইনার দিতে ভুলবেন না। ঠোঁটে ন্যুড কিংবা পছন্দের লিপস্টিক বুলিয়ে নিন। কপালে পরে নিন গোল, চন্দ্রাকৃতি কিংবা ত্রিকোণাকৃতির কোনো টিপ। 
সন্ধ্যার সাজে বেইজ মেকআপে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পর প্রাইমার লাগান। এরপর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। লুজ পাউডার বুলিয়ে পিচ গোলাপি বা ব্লাশন দিন। শাড়ি যদি হালকা রঙের হয় তাহলে চোখে গাঢ় রঙের শ্যাডো ব্যবহার করুন। শাড়ি যদি জমকালো হয় তাহলে চোখে হালকা রঙের শ্যাডো বুলিয়ে মোটা করে আইলাইনার দিতে পারেন। ঠোঁটে ম্যাট কিংবা গ্লসি লিপস্টিক দিন। 
বসন্তের সাজে ফুল না হলে ঠিক জমে না। চুলের খোঁপা কিংবা বেণিতে গাঁদা, জিপসি, গ্লাডিওলাস কিংবা পছন্দের যে কোনো ফুল গুঁজতে পারেন। চুল খোলা রাখতে চাইলে একপাশে সিঁথি কেটে কানের পেছনে ক্লিপ দিয়ে দু-তিনটি গোলাপ কিংবা রক্তজবা ফুল গেঁথে নিন। খোলা চুলের সঙ্গে কানের পাশে প্রিয় যে কোনো ফুল গুঁজে নিতে পারেন।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News