আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নেই কোনো উত্তেজনা। ভোটের আগের দিন শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নির্বাচনী উৎসবের কোনো আমেজ দেখা গেল না। অনেকটা নিরিবিলি নিস্তরঙ্গ পরিবেশ সবখানে। সদরের বাইরেও দেখা যায় একই চিত্র। তবে পছন্দের দলীয় প্রার্থী না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কতটা ভোটার টানতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করবে উপস্থিতি।
শহররে পুলিশ লাইনস এলাকায় কথা হয় পরিবহন মালিক মিলন শেখের সঙ্গে। তিনি সমকালকে বলেন, ‘গোপালগঞ্জ আসলে আওয়ামী লীগের এলাকা। এখন তারা যেহেতু নেই, তাই ভোটের মাঠে তেমন কোনো উত্তেজনা নেই। অন্যান্য নির্বাচনের সময় এখানে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যেত। মোড়ে মোড়ে লোকজনের জটলা থাকত। নির্বাচন ঘিরে একটা উৎসবের মতো পরিস্থিতি থাকত। এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটের নির্বাচনে তেমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না।’
শহরের চৌরঙ্গী, পুরনো লঞ্চ ঘাট, পোস্ট অফিস মোড়, বটতলা, পাচুড়িয়া, বেতগ্রাম, ঘোনাপাড়া মোড় এলাকায় দেখা যায় সাধারণ দিনের মতোই চিত্র। কোথাও মানুষের জটলা, চায়ের আড্ডায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বা উচ্ছ্বাস নেই। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ হওয়ায় প্রার্থী বা কর্মীদেরও তৎপরতা ছিল না বিশেষ। শুধু সড়কে-অলিগলিতে ঝুলছে কিছু ব্যানার ফেস্টুন।
এ প্রসঙ্গে মুকছুদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক আলীম মাদ্রাসার সভাপতি নাজিম উদ্দিন সমকালকে বলেন, ‘নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ এখানে নেই। কারণ একটা বড় অংশের মানুষের পছন্দের প্রার্থী নেই। তারা একটি দলের সমর্থক, যারা ভোটের মাঠে নেই। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার যথেষ্ট শঙ্কা আছে। তবে বিকল্প হিসেবে কোথাও কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেবে মানুষ। এজন্য ওইসব কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা থাকবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কতটা ভোটার টানতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করবে উপস্থিতি।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী সমকালকে বলেন, ‘দেশের অন্যান্য জেলার মতো জমজমাট নির্বাচনী হাওয়া এখানে অনুপস্থিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকাই এর কারণ। একই কারণে ভোটার উপস্থিতিও কম হবে বলে মনে হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ২৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে মনে হয় না।’
প্রার্থীরা যা বলছেন
গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা বলেন, ‘গোপালগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রভাবাধীন এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে এবার আমরা ভিন্ন বাস্তবতায় ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। আগের নির্বাচনগুলোর ভোটার অনুপস্থিতি আর ভীতিকে দূর করে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের বড় কৌশল। গোপালগঞ্জের মানুষ অপরাধী নন, তাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা নেতিবাচক ধারণা বদলাতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই দরকার।’
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ মোল্লা বলেন, ‘গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় আমরা তাদের ভোটারদের কাছে স্পষ্ট করেছি, ৫ আগস্টের আগে ও পরে যারা কোনো সহিংসতায় জড়িত নন, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে তাদের হয়রানি করা হবে না। প্রশাসনকেও আমরা এ বিষয়ে জানিয়েছি। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা আপত্তি করি না, কিন্তু শুধু দলীয় পরিচয়ে কাউকে নয়।’