আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ৯ লাখ সদস্য মাঠে
Date: 2026-02-19
নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটে বিশৃঙ্খলা ও কারচুপি ঠেকাতে বিভিন্ন বাহিনীর সাড়ে ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন আছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় টহল শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এবার প্রথম কোনো জাতীয় নির্বাচনে এত সংখ্যক ফোর্স দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে থাকছে সিসি ক্যামেরা। এর পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হামলা ও সংঘর্ষের খবর মিলেছে। ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা।
জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং বিপজ্জনক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার অভিযান কয়েক দিন ধরে জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে এবং নগরীর মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স, বাইরে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স। কোনো কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব দ্রুত সেখানে পৌঁছাবে। এ জন্য আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে তাৎক্ষণিক ভোট গণনা করা হবে। ফলাফলের স্বাক্ষরিত কপি এজেন্টদের সরবরাহ করা হবে।
পুলিশের হিসাবে, তপশিল ঘোষণার পর এ পর্যন্ত ৩১৭টি নির্বাচনী সহিংসতায় ৫ জন নিহত এবং ৬১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৭। ভোটের দিন ও তার পরবর্তী কয়েক দিন সারাদেশে থাকবে কড়া পাহারা।
নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সেনাবাহিনীর সদস্য মাঠে রয়েছে এক লাখ তিন হাজারের মতো। পুলিশ সদস্য এক লাখ ৮৭ হাজার। এ ছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য থাকছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন। তাদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আনসার বাহিনীর যারা মোতায়েন থাকবে, গতকাল তারা নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রওনা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য সংখ্যা ১১ হাজার ৯১০।
রাজধানীসহ সারাদেশে বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মাঠে নেমেছে। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র বলছে, ভোটকেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে ১ লাখ ৫৮ হাজার পুলিশ। বাকি ২৯ হাজার সদস্য সাপোর্ট ডিউটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বডি ওর্ন (পোশাকের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা) ক্যামেরা ব্যবহার করবে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৫ হাজার ৫০০ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিমকার্ড যুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় থাকবে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটেগরিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রবেশপথ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। গতকাল বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, নির্বাচনে কোনো জঙ্গি হামলার শঙ্কা দেখছে না র্যাব। তবুও সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যে কোনো নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। গতকাল রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিজিবির একাধিক নির্বাচনী বেজ ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় মতবিনিময়কালে এমন নির্দেশনা দেন তিনি।
রাউজানে গোলাগুলি, আতঙ্ক
চট্টগ্রামের রাউজানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শমসেরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত তিন দিন ধরে কদলপুর ইউনিয়নে স্থানীয় সন্ত্রাসী রায়হান ও আলম গ্রুপের মধ্যে ফাঁকা গোলাগুলির ঘটনা ঘটছিল। গতকালও তারা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করে। এক পর্যায়ে শমসেরপাড়া এলাকায় রুস্তম আলী নামে ইউনিয়ন যুবদলের এক কর্মীর বাড়িতে কয়েকটি গুলি করে সন্ত্রাসীরা। পরে সন্ত্রাসীরা ১০/১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার পাহাড়বেষ্টিত অঞ্চলের দিকে চলে যায় বলে জানান স্থানীয় আবদুল হালিম নামে এক ব্যক্তি।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সকালে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ শমসেরপাড়া এলাকা থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। জবাবে অপর পক্ষ জয়নগর বড়ুয়াপাড়া এলাকা থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
রাউজান থানার ওসি মাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ, সেনা সদস্যরা গিয়ে কাউকে পায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে আছি। যৌথ বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে।
জয়পুরহাটে সংঘর্ষে আহত ৯
জয়পুরহাটে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছে। আহতদের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জয়পুরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা তাঁর লোকজন নিয়ে কলেজ এলাকায় যান। সেখানে তাঁর কর্মীরা বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধানের কর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে পরে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় উভয় প্রার্থী পরস্পরকে দায়ী করেছেন।
নেত্রকোনায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
নেত্রকোনা-৩ আসন কেন্দুয়ায় বিএনপি প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের গারাউন্দ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন নিয়ে ধানের শীষের সমর্থক যুবদল নেতা আবদুল হালিম ও দলটির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার ঘোড়া প্রতীকের অনুসারী গারাউন্দ গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
মুন্সীগঞ্জে সমর্থকদের সংঘর্ষ
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের শিলই ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন ও ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার দিকে ইউনিয়নের পূর্ব রাখিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উখিয়ায় অস্ত্র উদ্ধার
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সকালে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে উখিয়ার বালুখালী ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি জুলু ডাকাতের ছেলে আমিন এবং তার দেহরক্ষী জানে আলমসহ এক বাঙালিকে আটক করা হয়। অভিযানকালে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি একে-২২ রাইফেল, ১টি দেশীয় পিস্তল, ২টি একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, ১টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২টি রাইফেলের ম্যাগাজিন, ৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৮৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি এবং ২টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর একটি অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার জন্য জামায়াত বিএনপিকে দায়ী করেছে। তবে বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কুষ্টিয়ায় অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বিজিবি। গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের পোলট্রির মোড় এলাকা থেকে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ৩ রাউন্ড গুলি ও একটি দেশীয় শুটার গান। এ ছাড়াও সেখানে ছিল ২টি বড় রামদা, ৫টি ছোট রামদা, ৫টি হাঁসুয়া, একটি চাপাতি, একটি ছুরিসহ মোট ১৪টি দেশীয় অস্ত্র।
শরীয়তপুরে ৪১টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মজিবুর মাদবরকে গত মঙ্গলবার রাতে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক নারীকেও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪১টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেনীতে খামারে বিদেশি পিস্তল
ফেনীতে বদরুল আমীন নামে এক ব্যক্তির গরুর খামার থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৪টি গুলি ও ছুরি উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল সকালে সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের হকদি গ্রামের ডা. সাহাব উদ্দিনের বাড়ি-সংলগ্ন খামার থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। খামারটির মালিক বদরুল আমীনের সঙ্গে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলমের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
হবিগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে আগুন
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামে গতকাল ভোরে সুনারু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের একটি কক্ষে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কেন্দ্রে জামায়াত কর্মী ঢোকায় বিএনপির হামলা
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে একটি কেন্দ্রে সন্ধ্যার পর কয়েকজন জামায়াতের কর্মী ঢোকায় বিএনপির কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকজন জামায়াতের কর্মী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী টহল দল ও পুলিশ গিয়ে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কটিয়াদীর ইউএনও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মার্লিজও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। ইউএনও শামীমা আফরোজ মার্লিজ জানিয়েছেন, পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নেই।
উল্লাপাড়ায় ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের বাড়িতে আগুন
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে সলঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হারুনর রশিদের বাড়ির বাইরে বুধবার রাত ১০টায় সরিষার গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় পাশের লোকজন এগিয়ে এসে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। হারুনর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। সলঙ্গা থানার ওসি ইমাম জাফর জানান, কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।
এদিকে গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া জেলার ৭টি কেন্দ্রের আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি কেন্দ্রের সামনে থেকে গতকাল দুপুরে ১০টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে গতকাল ১২টি পেট্রোল বোমা ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার করেছে র্যাব। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ৫টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল উপজেলার ঝাড়ঘগিয়া গ্রামে একটি মুদি দোকানের পাশ থেকে বোমাগুলো উদ্ধার করা হয়। বাগেরহাটেও গতকাল অভিযান চালিয়ে ৬টি ককটেল উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। ভোরে শহরের কাঠেরপোল এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়।
(ব্যুরো, অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো তথ্য)

