শেষ মুহূর্তে বাণিজ্য মেলার স্টল নির্মাণে ব্যস্ততা

Date: 2026-01-01
news-banner

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ওই দিন সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শেষ সময়ে মেলার সব ধরনের স্টল ও প্যাভিলিয়নের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা। ব্যবসায়ীদের আশা, স্টল প্রস্তুত হলে প্রথম দিন থেকেই পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে। মেলাকে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মেলায় যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকবে ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি থাকবে একাধিক মোবাইল টিম, বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট ও সার্বক্ষণিক টহল। যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে অনলাইনে ই-টিকিট কাটার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে থাকবেন বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক।

মেলায় দর্শনার্থীদের বসার জন্য থাকবে তিনটি সিটিং জোন। ব্যাংকিং লেনদেনের সুবিধায় বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক বুথ স্থাপন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মেলার ভেতরে একটি পুলিশ ক্যাম্পও থাকবে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে থাকবেন।
তবে, এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় মেলার আশপাশের সড়ক ও শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত কাঞ্চন সেতুর দুই পাশে বেহাল সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। তাদের আশঙ্কা, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানজট হলে ভোগান্তি বাড়বে।

ব্যবসায়ীরা জানান, কাঞ্চন সেতুর উভয় পাশে মাটির স্তূপ ফেলে রাখা হয়েছে। ভেকু দিয়ে সড়ক খনন ও সংস্কারকাজ চলমান থাকায় ধুলাবালিতে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

ইপিবি সূত্র জানায়, এবার মেলার অন্যতম আকর্ষণ থাকবে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। এখানে দর্শনার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অগ্রযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বছর ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৫০টিরও বেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। এসব স্টলে ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কারাগারে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন পণ্য, থ্রিপিসসহ নানা পোশাক, কসমেটিকস, গৃহস্থালি পণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় দেওয়ারও ঘোষণা রয়েছে।

ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। টিকিটের মূল্য আগের মতোই ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকছে দুটি শিশুপার্ক। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের যাতায়াত সুবিধায় বিআরটিসি বাসসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে আজ বেলা ১১টায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। 
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফিন জানান, এবারের মেলায় ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, সিঙ্গাপুর ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের স্টল অংশ নেবে। 

Leave Your Comments

Trending News