তুরস্কের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সোমবার দামেস্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে বলে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ গত বছরের শেষ দিকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারের এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের একটি ‘সার্বিক মূল্যায়ন’ করার সুযোগ দেবে বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, আলোচনায় ১০ মার্চে দামেস্ক ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতিও উঠে আসবে।
ওই চুক্তির আওতায় বছরের শেষ নাগাদ কুর্দিদের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বেসামরিক ও সামরিক কাঠামো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করার কথা রয়েছে।
তবে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে এখনো চুক্তির বাস্তবায়ন থমকে আছে।
গত সপ্তাহে হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেন, সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী এসডিএফের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর ধৈর্য ‘শেষের দিকে’ এবং বাহিনী একীভূত করতে আরো বিলম্ব না করার পরামর্শ দেন।
সূত্রটি আরো জানায়, আলোচনায় ‘ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে দক্ষিণ সিরিয়ায় উদ্ভূত নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি’ এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে সিরিয়ার আনুষ্ঠানিক যোগদানের বিষয়টিও তোলা হবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সিরিয়ায় আইএসের অন্তত ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব হামলাকে ডিসেম্বরে পালমিরায় মার্কিন সেনাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার জবাবে ‘খুবই গুরুতর প্রতিশোধ’ বলে বর্ণনা করেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রটি বলেছে, ‘দামেস্ক ও আঙ্কারার সহযোগিতার লক্ষ্য হলো দায়েশ (আইএস)-এর পুনরুত্থান ঠেকানো, যারা সিরিয়ার ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চায়।’
তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তুরস্ক উত্তর সিরিয়ায় সিরীয় কুর্দি যোদ্ধা ও আইএসের বিরুদ্ধে তিনটি সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
২০১৪ সালে আইএস সিরিয়া ও প্রতিবেশী ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় তারা ভৌগোলিকভাবে পরাজিত হলেও দেশটির বিস্তৃত মরুভূমি অঞ্চলে এখনো তাদের উপস্থিতি রয়ে গেছে।