ইতালি সোমবার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী প্রত্যাহারের পরিকল্পনা কার্যকর হলেও লেবাননে তারা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়।
লেবানন সফরকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউনিফিল চলে যাওয়ার পরও ইতালি তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে—আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে এবং লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, এর অর্থ লেবাননে ইতালির সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার ইচ্ছাই।
১৯৭৮ সাল থেকে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বাফার হিসেবে কাজ করে আসছে।
২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি দখল শেষ হলেও ইউনিফিল সেখানে অবস্থান করে।
লেবানন ইউনিফিলের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে থাকলেও, ইসরায়েল ও তাদের যুক্তরাষ্ট্র মিত্রের চাপের মুখে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত আগস্টে ইউনিফিলের জন্য মাত্র আরেক দফা চূড়ান্ত মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।
বর্তমানে ইউনিফিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইতালির মেজর জেনারেল দিয়োদাতো আবাগনারা। বাহিনীটিতে ৪৯টি দেশের মোট ৯ হাজার ৯২৩ সেনা সদস্য রয়েছে, ইউনিফিলের ওয়েবসাইট অনুযায়ী।
ইতালি এক হাজার ৯৯ সেনা মোতায়েন করে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবদানকারী দেশ, যেখানে ইন্দোনেশিয়া রয়েছে শীর্ষে—এক হাজার ২৩২ সেনা নিয়ে।
ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসের পর ইসরায়েল ইউনিফিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বৈরুত সরকারকে নিজেদের কর্তৃত্ব জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে অস্ত্রবিরতির আওতায় লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন হচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ভেঙে দিচ্ছে।
সোমবারের বিবৃতিতে ক্রোসেত্তো বলেন, ‘লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে সহায়তা প্রয়োজন, যাতে তারা দেশের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রক্ষায় সর্বোত্তম অবস্থানে থাকতে পারে।
’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে আমাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করব।’