পাকিস্তান মঙ্গলবার তাদের লোকসানে থাকা রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) বেসরকারীকরণের জন্য তিনটি দরপত্র পেয়েছে। এটি ইসলামাবাদের লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিক্রির উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত কর্মীসংখ্যা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে জর্জরিত পিআইএ। চলমান বৈদেশিক লেনদেন সংকটের মধ্যে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়ায় সংস্থাটির তহবিল সংকট তীব্র হয়েছে।
দরপত্র প্রক্রিয়াটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ার পর টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তার মন্ত্রিসভাকে বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল, কারণ পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লেনদেনটি হতে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যদি দরপত্র সফল হয়, তাহলে বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া গতি পাবে।’
তিনটি দরদাতা কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা পিআইএর প্রস্তাবিত ৭৫ শতাংশ শেয়ারের জন্য স্বচ্ছ বাক্সে তাদের দর জমা দেন।
একটি কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্বে রয়েছে বেসরকারি পাকিস্তানি বিমান সংস্থা এয়ার ব্লু, আরেকটির নেতৃত্বে লাকি সিমেন্ট এবং তৃতীয়টির নেতৃত্বে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আরিফ হাবিব।
সরকার বুধবার পরে পিআইএর একটি রেফারেন্স মূল্য প্রকাশ করবে এবং ন্যূনতম মূল্য পূরণ হলে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
এর আগে গত বছর বেসরকারীকরণের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, যখন মাত্র একটি দর পাওয়া গিয়েছিল তিন কোটি ৬০ লাখ ডলারের, যা সরকারের প্রত্যাশিত ৩০ থেকে ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অনেক নিচে ছিল।
পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকা বাতিলের আগে, পিআইএ ২০২২ অর্থবছরে ৮৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রাজস্বের বিপরীতে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের নিট লোকসানের কথা জানিয়েছিল।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ২০২৯ সালের মধ্যে আর্থিক, জ্বালানি, শিল্প ও খুচরা খাতের কয়েক ডজন লোকসানী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিক্রির অঙ্গীকার করেছে ইসলামাবাদ।
ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও দুর্নীতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে, ফলে সরকারকে সেগুলো টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত অর্থ ঢালতে হয়েছে।
১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পিআইএ একসময় জাতীয় গর্ব ও দ্রুত উন্নয়নের প্রতীক ছিল। তবে আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির কারণে এর সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২০ সালের জুনে পিআইএকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। তার এক মাস আগে করাচির একটি সড়কে পিআইএর একটি এয়ারবাস এ-৩২০ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় ১০০ জন নিহত হন।
ইউরোপ ও ব্রিটেন চলতি বছর পিআইএর ফ্লাইট পুনরায় চালুর অনুমতি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এখনো তা কার্যকর হয়নি।
কর্মকর্তাদের মতে, পিআইএর ৩৪টি উড়োজাহাজের বহরের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৮টি সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।