সামাজিক মাধ্যমে নতুন শঙ্কা এবার ঘোস্ট পেয়ারিং

Date: 2026-01-13
news-banner

বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত অ্যাপ এখন হোয়াটসঅ্যাপ। এতে নতুন শঙ্কার নাম ঘোস্ট পেয়ারিং। এই পেয়ারিং ব্যবহার করে যে কোনো সময়ে বিশেষ সুবিধা আদায় করতে পারে সাইবার চক্র। নতুন এ বিপদ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

এই অ্যাপ প্রায় সবাই ব্যবহার করেন। ঠিক এ কারণেই এই মাধ্যমে হামলা চালানোর জন্য এই ঘোস্ট পেয়ারিংকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি ব্যবহার করে এই অ্যাপ এককথায় ছিনতাই করছেন প্রতারকরা। সাইবার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শে বলছেন, সন্দেহ হওয়া লিঙ্কে কোনো সময়েই ক্লিক করা যাবে না; করলেই ঘটবে বিপদ। সিম অথেন্টিকেশন বা পাসওয়ার্ড ছাড়াই এই অ্যাপের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে অন্যের হাতে। এর ফলে অ্যাপে সংরক্ষিত থাকা ছবি, ভিডিও বা যে কোনো জরুরি ডকুমেন্টের নিয়ন্ত্রণ বেহাত হয়ে যাবে।

কিছুদিন ধরে এ নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে সুস্পষ্ট করে জানানো হয়, এই রকমের প্রতারণা কী করে রুখতে হয় আর ঠিক কী করা অনুচিত।

গবেষকরা বলছেন, আক্রমণের ছকে হোয়াটসঅ্যাপ নির্বাচন করার কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। যার প্রধান কারণ হলো, এই অ্যাপ একই সঙ্গে একাধিক ডিভাইসে ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট একটা ফোন নম্বর দিয়ে এই অ্যাপ চালু করলে তা একাধিক ডিভাইসে সক্রিয় হয়। অন্যদিকে, এই অ্যাপের অনলাইন সংস্করণও অনেকে ব্যবহার করেন।

ঠিক এমন কারণেই এই অ্যাপে ম্যালফাংশন করা অন্য যে কোনো অ্যাপের চেয়ে সহজ। এ জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে চলা উচিত। যার মধ্যে অন্যতম হলো সিমনির্ভর অথেন্টিকেশন ছাড়া কোনো মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ চলবে না। এতে অবশ্য প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকে বলছেন, এতে গোপনীয়তার ব্যত্যয় ঘটবে। তবে এই ঘোস্ট পেয়ারিং সারাবিশ্বে বেশ জটিলতা তৈরি করেছে। কারণ, হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপ যদি একসঙ্গে কয়েকটি ডিভাইসে চলে, সে ক্ষেত্রে সমস্যা যে কোনো সময়ই তৈরি হতে পারে। এ জন্য থাকতে হবে সতর্ক। কারণ, ওয়েবনির্ভর অ্যাপ যদি সাইবার প্রতারক চক্রের নাগালে চলে যায়, সে ক্ষেত্রে বিপদ হাজির হবে আগাম বার্তা না দিয়েই। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আগে থেকেই পরামর্শ দিয়েছেন।

কী কী মেনে চলতে হবে

অনেক প্রতারক চক্র ফেসবুকে ফাঁদ পাতানো লিঙ্ক প্রেরণ করে। না যাচাই করে এই লিঙ্কে ক্লিক করলেই হুবহু নকল ফেসবুক ইন্টারফেস তৈরি হয়ে যায়। এতে অনেকেই গোলকধাঁধায় পড়ে বিভ্রান্ত হন; নকল আইডি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। ছদ্মবেশী আলাপচারিতায় চাওয়া হয় ফোন নম্বর আর বিশেষ কোড। সেটি দিলেই ফাঁদে ফেলে সব তথ্য নজরদারি শুরু করে প্রতারক চক্র।

ওয়েব সংস্করণ

সন্দেহ মনে হওয়া কোনো লিঙ্ক এলে তাতে ক্লিক না করার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ ব্যবহৃত কোনো অ্যাপের ওয়েব সংস্করণ রয়েছে এমন অ্যাপ ব্যবহার করলে অবশ্যই সেটিংস অপশন থেকে কোন কোন ভিভাইস অ্যাড রয়েছে, তা যাচাই করতে হবে। অন্য ডিভাইস থেকে অবশ্যই লগআউট হতে হবে। এসব পরামর্শ মেনে চললে সম্ভাব্য বিপদ অনেকাংশে প্রতিহত করা যাবে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News